নদীয়া জেলার উত্তর পূর্বে জলঙ্গী নদীর ধারে এক প্রত্যন্ত প্রাচীন শহর তেহট্ট।নিতান্তই ছোট শহর - খুব জোর দুই হাজার লোকের বাস।শহরের শেষ প্রান্তে খান দুশো পূর্ব বঙ্গীয় পরিবার থাকে।সবকটাই ছা পোষা মধ্যবিত্ত সংসার।এলাকাটার একটা আদি নাম ছিল বটে তবে তা আজ বিস্মৃতপ্রায়।তেহট্টের দেশীয় বাসিন্দারা ঠাট্টা করে সে এলাকার নাম দিয়েছিল বাঙাল কলোনী।এখন সেই নামই থেকে শুরু করে সরকারি নথি সর্বত্র
বছর দশেক আগের কথা।শীতকালের এক অলস নিস্তরঙ্গ সন্ধ্যায় বাঙাল কলোনীতে ফণিভূষণ ঘোষের বাড়ি থেকে 'বল হরি হরি বোল' রব উঠল। ফণি বাবুর স্ত্রী ঊমা ঘোষ দীর্ঘ এক বছর ক্ষয় রোগে ভুগে মারা গেলেন।মৃতদেহ যখন বাড়ির দাওয়ায় এনে রাখা হল তখন পাড়া প্রতিবেশীদের ঢল নামল।ঊমা দেবী মিশুকে মহিলা ছিলেন এবং পাড়ায় সবার সাথেই সদ্ভাব ছিল।তাই মাত্র পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সে তাঁর অকাল মৃত্যুতে সকলেই খুব হা হুতাশ করল।ফণি বাবুর নিজের এবং শ্বশুর বাড়ির পক্ষের লোকজন বেশীর ভাগই কাছাকাছি থাকত।তারাও এসে জড়ো হয়েছে।সমবেত মহিলা মহলের মধ্যে থেকে সংক্ষিপ্ত কান্নার রেশ উঠল।
ক্লাবের ছেলেরাই সব ব্যবস্থা করেছিল ইতোমধ্যে - খাটিয়া,ফুল,চাদর,বালিশ,ধূপকাঠি ইত্যাদি।সধবার মৃত্যু হয়েছে - তাই নিয়ম মাফিক গৃহ কর্তা সিঁদুর আর আলতা পড়িয়ে অর্ধাঙ্গিনীকে শেষ বিদায় জানালেন।স্বর্গ রথে করে মহা সমারোহে মৃতদেহ চললো জলঙ্গীর ধারে শ্মশান ঘাটে।
এসবের মাঝে আর একটি মুখচোরা জীব ভিড়ের আড়ালে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিল।সে এই তিন জনের পরিবারের শেষ সদস্য - ফণিবাবুর একমাত্র ছেলে সপ্তর্ষি।সপ্তর্ষি কল্যাণী ইউনিভার্সিটিতে রসায়ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।পড়া শোনার জন্য শেষ পাঁচ বছর সে কল্যাণীর হোস্টেলেই কাটিয়েছে।তবে মায়ের যাই যাই অবস্থায় গত দুই হপ্তা সে বাড়িতেই আছে।চোদ্দ দিনে সকলের অলক্ষ্যে অনেক কাঁদলেও এই শেষ বেলায় নিতান্তই পুরোষোচিত কঠোরতা তার চোখের জলের লাগাম কষে ধরলো।তার কিছু বন্ধু বান্ধব এসে জুটেছিল।তারাই তাকে নিয়ে শ্মশানের দিকে চলল।
শ্মশানে এসে মৃতের বাপ আর শ্বশুর বাড়ির লোকজনে সৎকার সম্বন্ধীয় নিয়ম কানন নিয়ে এক প্রস্থ বিতন্ডা হয়ে গেল।ফণি বাবু বাঙাল আর তাঁর স্ত্রীর বংশ ঘটি - তাই এই বিবাদ হওয়া আশ্চর্যের নয়।সেই বিবাদ মিটে দাহকার্য শেষ হতে প্রায় রাত একটা বাজলো।শ্মশান ভর্তি লোক একে একে বিদায় নিলো।শুধু সপ্তর্ষির মেজো পিসি আর তার মেয়ে সপ্তর্ষিদের বাড়িতে থেকে গেল - মৃতের পরিবারকে একা বাড়িতে রাত্রিবাস করতে নেই।
পর দিন সকালে আবার আত্মীয় ও পরিচিত লোকজন ফল-মূল,মিষ্টি-দই নিয়ে হাজির হয়ে মহা কোলাহল শুরু করলো।কিন্তু বাড়িতে সদ্য ঘটা দুর্ঘটনার প্রতি আগত অথিতিবৃন্দের কোনো সমবেদনা প্রকাশ পেলো না।পুরুষ মানুষেরা নিজেদের পেশা,রাজনীতি নিয়ে আলোচনা শুরু করলো তো মেয়েরা সংসার ধর্ম নিয়ে খোশগল্প পাতলো।অথচ যিনি মারা গেছেন তিনি কয়েকদিন আগেও এদের খুব কাছের লোক ছিলেন।তবুও তাঁকে নিয়ে কোনো কথা বা তাঁর মৃত্যু নিয়ে কেউ বিন্দুমাত্র শোক প্রকাশ করলো না।
লাজুক হলেও সপ্তর্ষি ছিল সংবেদনশীল।কুটুম্বদের এরকম ব্যবহারে সে যেমন দুঃখ পেলো তেমনি বিরক্ত হলো।এক একবার ভাবলো - যাই ফিরে যাই নিজের হোস্টেলে।কিন্তু সকলে কি ভাববে এই বিবেচনা করে ক্ষান্ত হলো।সারাদিন নিজের কিছু বন্ধু আর ভাই বোনদের সাথে গল্প করে কাটালো।
ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে সপ্তর্ষি যে কটি খারাপ অভ্যাস ধরেছিলো সিগারেট ছিল তার মধ্যে একটি।কাল থেকে একটিও সিগারেট খেতে পারেনি সে। উপরন্তু বাড়ির এই শোরগোল থেকে কিছুক্ষন নিস্তার পেতেও সে অস্থির হয়ে উঠেছিল।তাই বাইরে বেরোবার অছিলা খুঁজতে লাগলো।
সন্ধ্যের সময়, বাইরে একটু পায়চারি করতে যাবো বলায় বড় পিসি বললেন - ''এই কদিন বাইরে যেতে নেই বাবা।"
জোরাজুরি করায় জানালেন -"আচ্ছা যাও।তবে এ কদিন একলা বেড়োতে নেই,প্রতীমকে নিয়ে যাও। "
প্রতীম মানে বড় পিসির ছেলে - সপ্তর্ষির থেকে বছর পাঁচেকের ছোট।
বেরোবার সময় বড়ো জ্যেঠিমা বললেন ,"যাচ্ছ যাও।কিন্তু অন্ধকারে যাবে না আর কখনো পিছনে তাকাবে না।"
পিছনে তাকাতে কিসের বারণ তা অবশ্য সপ্তর্ষি কিছুটা জানে।বছর দশেক আগে যখন তার ঠাকুরমা মারা যায় তখনো সে এই নিষেধ মেনেছে কিছুদিন।
অগত্যা সপ্তর্ষি তার পিসতুতো ভাইকে নিয়েই বেরোলো।ভাই ধূমপান করতো না - অন্ততঃ বড়দের সামনে।তাই বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে একটা দোকান থেকে সিগারেট ধরিয়ে তারা দুজনে আরো কিছুটা তফাতে গিয়ে একটা জায়গায় দাঁড়ালো।জায়গাটা ফাঁকা আর পাশে ঝোপ ঝাড়ে ভরা - কিছু দূরেই নালার উপর একটা ভাঙ্গা পুল।বৈদ্যুতিক বাতি এদিকে নেই -তাই সন্ধের পর লোকচলাচল তেমন হয় না।গল্প করতে করতে সিগারেট খেতে মিনিট পাঁচেক লাগলো।
এরকম ভাবে আরো দু দিন চললো।প্রতিদিন এ সে বেড়াল তাকে ওই এক এ জায়গায় দেখতো।এমনকি একদিন তার ভাই কেও দেখালো।ঘরের বেড়াল ঝোপ ঝড়ে কি করে রাতের বেলায় - সপ্তর্ষির কৌতূহল হলো।এই কদিনে বেড়ালটার ওপর কেমন একটা টান জন্মে গেছে তার।
এমন সুন্দর বেড়ালতো সপ্তর্ষি আগে কখনো পাড়ায় দেখেনি।সে নিজে বেড়াল খুব ভালোবাসে।বাড়িতে যখন থাকতো তখন নিজেই দুই তিনটে বেড়াল পুষেছিল।অবশ্য গত পাঁচ বছর সে ঘর ছাড়া - তাই পাড়ার বেড়ালদের খবর সে নাই জানতে পারে।এই ভেবে পরের দিন পাড়ার দুই চারটে ছেলেকে বেড়াল নিয়ে জিজ্ঞাসা করলো বটে কিন্তু তারা সবাই জানালো যে ওরকম বেড়াল এ তল্লাটে থাকা অসম্ভব।
পরের দিন প্রতীম আর এলো না তাদের বাড়িতে।সপ্তর্ষি বাধ্য হয়েই একাই বেরোলো। আবার দেখতে পেলো সে বেড়ালটাকে। আজ যেন তাকে একা দেখেই বেড়ালটা একটু এগিয়ে এসে একটা গাছের আড়ালে এসে দাঁড়ালো
সেদিন রাতে সপ্তর্ষির ঘুম হলো না।বারবার সেই বেড়ালটার কথা তার মনে পড়লো। আহা কী সুন্দর - যেন সাক্ষাৎ লক্ষীর বাহন। পৃথিবীর সব সৌন্দর্য,কোমলতা আর নির্মলতা যেন তার মধ্যে। সে যেন একটা শুভ শক্তি - যে গেরস্থের বাড়িতে যাবে সেখানেই লক্ষীর বাস হবে । তার
এর পরেও সপ্তর্ষি রোজ যেতে লাগলো সেই জায়গাটায় - সবার চোখ এড়িয়ে - একাই। আর রোজই সে দেখতে পেতো বেড়ালটাকে।খুব কাছে আসতো না যদিও।সপ্তর্ষিও ডাকেনি কোনোদিন। যেন কোনো অদৃশ্য বাধা তাদের আলাদা করে রাখতো। অথচ এই সান্নিধ্যের মধ্যেই এক অব্যক্ত তৃপ্তি খুঁজে পেতো সে - যেমনটি সে পেতো ছোটবেলায় স্কুল থেকে ফিরে মায়ের সাথে একান্তে খেতে বসে বা ছুটির নিঃসঙ্গ দুপুরে মায়ের পাশে শুয়ে শুয়ে।
অবশেষে এগারো দিনের দিন শ্রাদ্ধ হলো।নিমন্ত্রিতরা সকলে এসে উমা দেবীর যথেচ্ছ সুনাম করে তার অকাল প্রয়াণের জন্য ফণিবাবু আর সপ্তর্ষিকে সান্ত্বনা দিয়ে গেলো।গীতাপাঠ করে ঠাকুর মশাই দক্ষিণা নিতে নিতে বললেন - "এমন ঠাকুর প্রতিমার মতো মা এত কম বয়সে চলে গেলেন সংসার ছেড়ে।গিরিধারীর লীলা কে বোঝে যাই হোক কোনোদিন সামর্থ্য হলে গয়ায় গিয়ে মায়ের নামে পিন্ড দিয়ে এসো।" বারংবার নিজের মায়ের প্রশংসা শুনে কখনো সপ্তর্ষির গর্ব হলো আবার কখনো চোখের কোণে জল এলো।
এরপর সারাদিন অনেক আচার আচরণের পর শ্রাদ্ধ শেষ হলো।যার নাড়ী ছিড়ে ভূমিষ্ঠ হওয়া,তাকেই জীবন থেকে চিরতরে দূরে সরিয়ে দেবার আয়োজনের অবশেষে সমাপ্তি ঘটলো।শেষকালে নিয়মানুযায়ী একটা অন্ধকার ফাঁকা ঘরে কলার পেটোয় করে কিছুটা ছাই রেখে দেওয়া হলো। লোকশ্রুতি আছে যে, শ্রাদ্ধ শেষে আত্মা ধরাধামে তার নিজের আবাস ছেড়ে বৈকুন্ঠধামে যাত্রা করে - আর যাবার সময় তার পায়ের ছাপ পরে ওই ছাইয়ের উপর।এই আচারের সাথে অবশ্য সপ্তর্ষি পরিচিত। ছোটবেলায় ঠাকুরদা আর ঠাকুরমার শ্রাদ্ধে এই ব্যাপার সে দেখেছে - যদিও পায়ের ছাপ কোনদিন ছায়ের উপর পড়তে দেখেনি।
সেদিন আর সপ্তর্ষি সিগারেট খাবার ফুরসৎ পেলো না।অনুষ্ঠান শেষ করে স্নান করতে করতেই সন্ধ্যে পার হলো।বেড়ালের প্রসঙ্গও তার মাথায় এলো না।
সেদিনই রাতের কথা।সন্ধ্যে থেকে ঝির ঝিরে বৃষ্টি হয়ে বেশ ঠান্ডা পড়েছিল।ছোট শহর,তারপর আবার শীতের রাত - দশটার পর পাড়া পুরো শুনশান।দিন ভর খাটা খাটনির পর শ্ৰাদ্ধ বাড়ির লোকজন রাত ন'টা বাজতেই ঘুমিয়ে পড়েছিল।লোক বলতে সপ্তর্ষি,তার বাবা,মেজো পিসি আর তার মেয়ে।কাজ উপলক্ষ্যে যেসব আত্মীয় দূর থেকে এসেছিল তাদের বেশির ভাগই পাততাড়ি গুটিয়েছে।পরের দিন নিয়ম ভঙ্গ,তাই সকাল থেকেই আবার কাজের হিড়িক লেগে যাবে।সপ্তর্ষিরও সারাদিন অনেক পরিশ্রম হয়েছিল।তাই লেপ মুড়ি দিয়ে শুতেই দুই চোখ বুজে এলো।
ঘুম যখন ভাঙল তখন মাঝ রাত।গলাটা ভীষণ শুকিয়ে উঠেছিল সপ্তর্ষির।কিন্তু লেপটা চাড়া দিয়ে উঠতে গিয়ে পারলো না - এক অসীম আলস্য আর ব্যাথা তার দেহকে গ্রাস করেছে।শরীরটা ঠান্ডায় কাঁপছে।লেপটাকে কোনো রকমে আষ্টে পিষ্টে জড়িয়ে নিলো সে।বুঝতে পারলো জ্বরে শরীর পুড়ে যাচ্ছে।ছোট বেলা থেকেই জ্বর জ্বালা তার নিত্যসঙ্গী - বিশেষতঃ ঠান্ডা আর জোলো আবহাওয়া একেবারে সহ্য হয় না তার।তাই এই দীর্ঘ এগারো দিন ধরে অনিয়ম আর গঙ্গা স্নানে যে শরীর খারাপ হবে তাতে আর আশ্চর্য কি?তবে মা থাকলে সারা রাত জেগে জল পটি দিত - মাথায় রসুন- তেল মালিশ করে গা-হাত-পা টিপে দিত।আজ নিজের জীবনে তাঁর গড়হাজিরায় সপ্তর্ষি প্রথম বারের জন্য নিজেকে অসহায় মনে করল।বাড়ির লোকজনকে ডাকার মতো শক্তি তখন দেহে ছিল না - লেপ ঢাকা দিয়ে নিশ্চল ঘুমহীন অবস্থায় পড়ে রইলো প্রায় ঘন্টা খানেক।
এক সময় হঠাৎই তার আধ খোলা চোখের দৃষ্টি গিয়ে পড়লো খাট লাগোয়া জানলাটার দিকে।এতক্ষন ঘরটা পুরো অন্ধকার হয়ে ছিল।তবে এখন জানলা দিয়ে চাঁদের আলো উপচে পড়ছে বিছানার উপর।কখন যেন আকাশের মেঘ কেটে গেছে।বাইরের পাঁচিলটাও দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট।আর জানলার ফটকের উপর ঘট হয়ে বসে সেই সাদা বেড়ালটা সপ্তর্ষির দিকে স্থির চেয়ে আছে।যেন সে সবেমাত্র ঘর থেকে বেড়িয়ে বাইরে যাবার উপক্রম করছিলো-চোখাচোখি হওয়ায় দাঁড়িয়ে পড়েছে।ঘুম আর ব্যাথায় মলিন চোখে সপ্তর্ষি তাকিয়ে থাকল তার দুটি উজ্জ্বল চোখের দিকে - যেন বহু দিনের কোনো মায়ার টান আছে তার সেই মূক জীবটির প্রতি।যেন সে তার অতি পরিচিত আপনজন - যে আপনজন তাকে জীবনের এই দীর্ঘ একুশ বছর নিজের করে আগলে রেখেছিল।দুঃখ-কষ্ট,অসুখ-বিসুখ,ঝড়-ঝঞ্ঝা থেকে বেরিয়ে আসার শক্তি জুগিয়েছিল প্রতিনিয়ত।আজ সেই আপনজন শেষ বারের মতো এসেছে বিদায় জানাতে - আর বলতে যে এবার নিজের খেয়াল তাকে নিজেকেই রাখতে হবে।
এভাবে কতক্ষন কাটলো ঠিক নেই।অতর্কিতে একটা হালকা হাওয়ার রেশ জানলা দিয়ে ঘরে ঢুকলো।সে হাওয়া ঠান্ডা কী গরম ,জাগতিক কী অতিপ্রাকৃতিক তার বিবরণ অপ্রয়োজনীয়।তবে সে বাতাস শরীরের সকল যাতনা নিমেষে শুষে নিতে পারে।যে পাখার বাতাসে সহস্র শতাব্দী ধরে স্নেহময়ী মায়েরা তাঁদের সন্তানদের শিয়রে বসে অক্লান্ত শুশ্রূষা করে এসেছে - এ তেমনি প্রাণ জুড়োনো বাতাস।সপ্তর্ষি অনুভব করলো যেন এক অদৃশ্য কোমল হাত তার শরীর স্পর্শ করেছে - খুব পরিচিত সে হাতের ছোঁয়া।অনেকটা আরাম বোধ হলো তার।জলের তেষ্টাও কখন উবে গেছে। বৈশাখের দুপুরে কলসীর ঠান্ডা জল যেমন সব তেষ্টা মিটিয়ে দেয় তেমনি তৃপ্তি তখন তার শরীরে।নিজের অজান্তেই তার চোখে ঘুম নেমে এলো।আর চোখ বুঝতে বুঝতে দেখলো সাদা বেড়ালটা যেন মিলিয়ে যাচ্ছে শার্সির ফাঁক দিয়ে।
পরদিন সকালে যখন ঘুম ভাঙলো তখন অনেকটাই সুস্থ সপ্তর্ষি।রাতের কথা তার আবছা মনে ছিল।কিন্তু জানালার দিকে চেয়ে কিছু দেখতে পেলো না সে।লেপ থেকে বেরিয়ে শার্সির কাছে গিয়ে উঁকি মারলো।নাঃ,কোথাও তো সেই বেড়াল নেই।কিছুক্ষন সাত পাঁচ ভেবে জানলা থেকে মুখ ফেরাতে গিয়েই থমকে দাঁড়াতে হলো।জানলার ফটকে কিছু ধুলোর ছোপ দেখতে পেলো সে।রোজ তো কাজের লোক ঘর মোছামুছি করছে, তবে এতটা ধূলো আসে কি করে ?কাছে গিয়ে একটু ভালো করে দেখেই বুঝলো ওগুলো ছাই-এর দাগ - ছোট কোনো চতুস্পদ জন্তু ছাই মাখা পায়ে চলা ফেরা করলে যেমন দাগ পড়ে।

